বঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন
জানেন কি বঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন কবে থেকে হয়েছিল। প্রশ্ন এসে যায়,”জগদ্ধাত্রী” শব্দের অর্থটা কি ? পণ্ডিত ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন,জগৎকে যিনি ধারন ও পালন করে থাকেন তিনিই জগদ্ধাত্রী । হেমন্ত কালের শুক্লা নবমী তিথিতে আমাদের বাংলায় জগদ্ধাত্রী দেবীর আরাধনা হয়। এই হেমন্তে আরাধনা হয় বলেই “হৈমন্তিকা” নামেও পরিচিত মা জগদ্ধাত্রী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে জগদ্ধাত্রী পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষ্ণনগরের নাম। তারপর রয়েছে চন্দননগর। তবে এখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রান্তে কমবেশি এই পুজোর আয়োজন হয়।
এবার আসি এই পুজোর শুরুটা কবে থেকে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে। এই নিয়ে অবশ্য দ্বিমত রয়েছে। কেউ বলেন,জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রথম শুরু হয়েছিল ১৭৬২ সালে। আবার অনেকে বলেন, কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীতে এই পুজোর প্রথম শুরু হয়েছিল। সালটি ছিল ১৭৭২। কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোয় সারা বাংলা জুড়ে মানুষের আগমন ঘটে। পুজোকে ঘিরে এক উন্মাদনা দেখা যায়। অগণিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। এখানকার পুজোয় এক আলাদা আবেগ-অনুভূতি থাকে।
জগদ্ধাত্রী পুজোর শুরুর দিকটা নিয়ে একটি কথা-কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালে নবাব আলিবর্দি খাঁ তাঁর কাছে তৎকালীন সময়ে নগদ ১২ লক্ষ টাকা কর দাবি করেছিলেন । রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেছিলেন। এরপর শাস্তিস্বরূপ মহারাজাকে মুর্শিদাবাদে বন্দী করা হয়েছিল। যখন বন্দি দশা মুক্তির পর রাজা কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন। সে সময় দুর্গাপুজোর বিসর্জন সমাপন । দুর্গাপুজোয় উপস্থিত না থাকতে পেরে মহারাজা মনে মনে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। ব্যথিত মন নিয়ে তিনি ঘুমাতে যান। সেই রাতে দেবী জগদ্ধাত্রী মহারাজাকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে পুজোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সেই থেকে মা দুর্গার আদলে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু হয়েছিল। রাজবাড়িতে কৃষ্ণচন্দ্রের পুজোর আয়োজন ও উৎসাহ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফরাসি দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন শুরু করেছিলেন। তৎকালীন চন্দননগর পরিচিত ছিল ফরাসডাঙ্গা নামে। তবে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজো বাংলার প্রাচীনতম জগদ্ধাত্রী পুজো বলে পরিচয় বহন করে। একসময় রাজা শুরু করেছিলেন এখন তাঁর প্রজারাও জগদ্ধাত্রী আরাধনায় মেতে উঠেন।

